শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাসুমা মমতাজের বিরুদ্ধে ভিজিডি, মাতৃকালীন ভাতার তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম টাকার বিনিময়ে তালিকাতে অন্তর্ভুক্তকরণ, কিশোরী ক্লাবের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায় শ্রীবরদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে মাসুমা মমতাজ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আর এ সুবাদেই তিনি সরকার প্রদত্ত দুস্ত নারীদের জন্য পরিচালিত ভিজিডি কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে জনপ্রতিনিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, গর্ভবতী দরিদ্র নারীদের জন্য মাতৃকালীন ভাতার তালিকা প্রণয়নে তার অফিস সহকারি মুন্নি কে দিয়ে সদর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলো থেকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
কিশোরী ক্লাবের অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে বিগত সময়ে মাসুমা মমতাজ এর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অনলাইন ও সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে রফা দফার মাধ্যমে কিশোরী ক্লাবের অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা জানায়, শ্রীবরদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়টি বর্তমানে অনিয়ম দুর্নীতির হাটবাজারে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তা মাসুমা মমতাজ ও তার অফিস সহকারী মুন্নি বেগম সরকারি দপ্তরে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য করছে।
তাদের ঘুষ বাণিজ্য এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। ভিজিডি ও গর্ভবতী ভাতার তালিকা প্রণয়নে তারা জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে নির্ধারিত হারে। এছাড়াও সদর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলো থেকেও মাসুমা মমতাজ তালিকার অন্তর্ভুক্তি করবে বলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম ও সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সারা দেশব্যাপী পরিচালিত হলেও শ্রীবরদীতে তেমন কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে না মাসুম মমতাজের দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণে। দরিদ্র নারী ও শিশুদের জন্য সাহায্য প্রদান কর্মসূচি চালু থাকলেও এ কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে না শ্রীবরদী উপজেলাবাসী।
উপজেলা সদরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রতিনিয়ত বাল্য বিয়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়রা বাল্যবিয়ে সম্পর্কে কর্মকর্তাকে অবগত করলেও তিনি রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ফলে শ্রীবরদী উপজেলায় বাড়ছে প্রতিনিয়ত বাল্যবিয়ের ঘটনা।
এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক কর্তৃক পরিচালিত শ্রীবরদী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি একেএম রুহুল আমিন কালাম বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা মহিলা অধিদপ্তরের অনিয়মের তথ্য পাচ্ছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।
এ প্রসঙ্গে শ্রীবরদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাসুমা মমতাজের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এসব মিথ্যা কথা। পরে সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।