
শ্রীবরদী প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের উত্তর খারামোড়া গ্রামে এক সন্তানের জননী আদিবাসী নারী ইভটিজিং ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ৩ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর খারামোরা গ্রামে।
এ ঘটনার পর থেকেই ওই আদিবাসী নারীর
পরিবার ও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বখাটে ও চোরাকারবারী দলের সদস্য একই গ্রামের নাইদুল মিয়া দীর্ঘদিন যাবত রাজধানী ঢাকায় একটি পার্লারে কর্মরত এক সন্তানের জননী আদিবাসী নারীকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ফলে তার ভয়ে সে নিজের বাড়িতে আসতে পারছিল না। অতি সম্প্রতি তার একমাত্র সন্তানকে দেখতে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। সোমবার সকালে তার ছেলেটিকে ওই আদিবাসী নারী দেখতে বারোমারি আদিবাসী চার্জে যায় সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসার সময় বখাটে নাইদুল ও তার সহযোগীরা সেই নারীকে আবারো হাত ধরে টানা হেচড়া করে। এক পর্যায়ে তার আত্মচিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে আসলে সে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে ওই আদিবাসী নারীর বড় ভাই বখাটে নাইদুল সহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে শ্রীবরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।
ভুক্তভোগী আদিবাসী নারী জানায়, স্থানীয় খারামোড়া গ্রামের মজিবরের ছেলে নাইদুল তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল, এর আগেও তার সহোদর চাচির সাথে সে পরকীয়া করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছিল। নাইদুলের অত্যাচারে সে তার বাড়িতে আসতে পারে না। ওই আদিবাসী নারীর বড় ভাই জানায়,
বিষয়টি স্থানীয় একটি সদস্য ও ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দদের জানানো হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর হক বলেন, বিষয়টি তাকে আদিবাসী নারীর বড় ভাই জানিয়েছেন, নাহিদুল ও তার পরিবার উশৃংখল প্রকৃতির। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। শ্রীবরদী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মর্নিংটন মারাক বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক, আমরা এ বিষয়ে তার পরিবারকে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। শ্রীবরদী উপজেলা আইন ও মানবাধিকার
সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সজীব হাসান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সেই নির্যাতিতা নারীর বাড়িতে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাকে যেকোনো ধরনের আইনগত সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত । তবে অভিযুক্ত নাইদুলের পরিবারের দাবি সেই আদিবাসী নারীর সাথে দীর্ঘদিন থেকে নাইদুলের প্রেম নিবেদন চলে আসছিল অতি সম্প্রতি সে আর নাইদুল কে পছন্দ করছে না। তার পিছে ঘুরতে গিয়ে নাইদুলের অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
শ্রীবরদী থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফ অভিযোগ দায়েরের সততা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।