স্টাফ রিপোর্টার : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় এক কথিত পীর নিহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এক সময় ঢাকায় শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে তিনি একটি আস্তানা গড়ে তোলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁর বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। যদিও ভিডিওটি পুরোনো বলে জানা গেছে, তবে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর তা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। ধীরে ধীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
দুপুর গড়াতেই সেই উত্তেজনা বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা ‘শামিম বাবার দরবার শরিফে হামলা চালায়। মুহূর্তেই আস্তানাটি পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে—চলে ব্যাপক ভাঙচুর, পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলার সময় শামীম রেজাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, ভিডিওটি অনেক আগের হলেও সম্প্রতি তা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও জনতার তুলনায় পুলিশ সদস্যসংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শামীম রেজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং সে সময় তিনি কারাভোগও করেন। মুক্তির পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে কে বা কারা পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে ছড়িয়ে দিল এবং কীভাবে এত দ্রুত পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নিল—তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরে আসার আশা করা হচ্ছে।