স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের শ্রীবরদীতে সরকারি চাকরি বিধিমালা লংঘন করে দীর্ঘ সময় কারাগারে হাজত বাস করে জামিনে এসে সরকারি অফিসে চাকরি করছেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এক পরিদর্শক।
আর এই আলোচিত পরিদর্শক হলেন আসাদুজ্জামান খোকন তিনি কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি একই ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে। আর এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনো বহাল তবিয়তে সেই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আসাদুজ্জামান খোকন ।
জানা যায়, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক একই ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে আসাদুজ্জামানের খোকনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয় খোকনের বিরুদ্ধে। গত ১৬ মার্চ তিনি একদিনের ছুটি নিয়ে শেরপুরের বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিতে যায়। বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে খোকনের জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৪ দিন তিনি শেরপুর কারাগারে হাজতবাস শেষে ৩০ ই মার্চ জামিনে মুক্তি পায়। তাকে দীর্ঘ সময় সরকারি অফিসে না পেয়ে গত ২৫ শে মার্চ শ্রীবরদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর ইসলাম তাকে চিঠি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে জামিনে এসে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে তিনি ফের কর্মস্থলে যোগদান করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে তাকে আবারও পত্র প্রদান করা হয়। ২ ই এপ্রিল জেল হাজতে ছিলেন মর্মে সত্যতা স্বীকার করে পত্রের লিখিত জবাব দেন আসাদুজ্জামান খোকন। আর এ নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয় স্থানীয়দের মাঝে। এ প্রসঙ্গে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু বলেন, কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ফৌজদারি অভিযোগে বা দেনার দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে হাজত বাস থাকলে গ্রেফতারের তারিখ থেকে তিনি সাময়িক দরখাস্ত বলে গণ্য হবে।
জামিনে মুক্তি পেয়েও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত গণ্য হবেন। অথচ আসাদুজ্জামান খোকনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ প্রসঙ্গে জেল হাজতে থাকা আসাদুজ্জামান খোকন বলেন, আমি ১৬ তারিখ হইতে ৩০ শে মার্চ পর্যন্ত শেরপুর কারাগারে আটক ছিলাম। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত আমাকে জামিন মঞ্জুর করেন। এখন আমি জামিনে রয়েছি যথারীতি আমার দায়িত্ব আমি পালন করছি।
এ প্রসঙ্গে শ্রীবরদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, আসাদুজ্জামান খোকন আমার দপ্তর থেকে একদিনের ছুটি নিয়ে কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আমি জানতে পেরে তাকে শোকজ করি। যথারীতি তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি আমি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে অবগত করেছি। শেরপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু দাম রবিবার দুপুরে বলেন, আসাদুজ্জামান খোকনের জেলে থাকা বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তা আমাকে ফোনে অবগত করেছেন। চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।